
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্দিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও অধ্যাপক রেজাউল করিম দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এমনকি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রেজাউল করিম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। অতীতে তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি দলের সংস্কারপন্থী অংশের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বহিষ্কারের আগ পর্যন্ত তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিউর রহমান নানু মুফতি, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, খেলাফত মজলিসের শাহজাহান, জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া, জনতার দলের আব্দুল করিম মুফতি, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।