
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ফলাফলে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ডিপিই জানায়, তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd)–এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর ক্রমানুসারে পাওয়া যাবে।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছয়টি শর্ত সাপেক্ষে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে—
১. এই ফলাফল সাময়িক হিসেবে গণ্য হবে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা শুধু মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি কোনো শূন্য পদে নিয়োগের নিশ্চয়তা নয়।
২. ফলাফলের যে কোনো পর্যায়ে ভুল, ত্রুটি বা মুদ্রণজনিত অসংগতি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ তা সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
৩. কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে তাঁর ফলাফল বা নির্বাচন বাতিল করা হতে পারে।
৪. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সমন্বয়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
৫. মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।
৬. মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সারা দেশে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোট আবেদনকারীর প্রায় ৭৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
কম সময়ে ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় অনেক চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এই নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দেয়। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে আসা, ডিজিটাল নকল ও ‘কেন্দ্র কন্ট্র্যাক্ট’–এর অভিযোগ তোলেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ। এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভও হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত চালায়। তদন্ত শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডিপিই জানিয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা খুব শিগগিরই পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।