
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সব ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন থেকেই পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ঢাকার হাইকমিশনের পাশাপাশি খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত সহকারী হাইকমিশনগুলোও এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দেশটিতে ভারতের কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে এবং তাদের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। শুধুমাত্র তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগসূত্র উল্লেখ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অস্থিরতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই ভারত এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলো নিয়মিত কনস্যুলার সেবা, ভিসা কার্যক্রম এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও এসব সেবা ও কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান থাকবে।