
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ছাত্রদল নেতা মো. জুনায়েদ হাসানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। তিনি শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং আসন্ন শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. জুনায়েদ হাসানকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করে টানা দুই দিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ অবস্থার মধ্যেই জুনায়েদ হাসান শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সরব ভূমিকা পালন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একযোগে আন্দোলনে অংশ নেন, যা দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি ১৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছাত্রসংসদ একটি স্বতন্ত্র ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই মুখ্য। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ হাসান বলেন, দলীয় চাপ যতই আসুক, তিনি ভয় পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ছাত্রদলের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাকসু নির্বাচন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, বহিষ্কারের ঘটনা ছাত্ররাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে।