
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো সংক্রান্ত সুপারিশসমূহ নিয়ে গঠিত বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় জমা দেওয়া হবে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান কমিশনের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত এর সুপারিশের বিস্তারিত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। অর্থ উপদেষ্টা জানান, প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান নিজেই প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সামনে প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেতন কমিশন নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামোর কিছু অংশ আংশিকভাবে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। আর পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন প্রস্তাবনায় এই সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে যে বেতন ৭৮ হাজার টাকা রয়েছে, তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান ১:৮ অনুপাতে সীমিত রাখার সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বরাদ্দ সরকারের ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত বহন করে।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। কমিশনের প্রস্তাবনায় বিশেষভাবে নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
এখন সব নজর প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে, যা দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবীর আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।