
সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত একই নামের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। এই সিনেমায় তার সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা লিসা গাজী, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, পরীমণিসহ সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা।
নিজের বহুদিনের ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে জানিয়ে পরীমণি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো চরিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছিলেন। তার ভাষায়, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, আমার পছন্দের চরিত্র কী। আমি সবসময় বলতাম—রবীন্দ্রনাথের কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। “শাস্তি”-এর চন্দরা চরিত্রটি নিয়ে কাজ করার জন্য আমি ভীষণ আগ্রহী ছিলাম। অবশেষে সেই সুযোগ আসছে।’
এই কাজটি নিজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন পরীমণি। তিনি বলেন, চরিত্রটির প্রতি ন্যায়বিচার করতে চান এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার মতো একটি কাজ উপহার দিতে চান।
নিজের বর্তমান ক্যারিয়ার ভাবনা প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, ইদানীং তিনি প্রথাগত বাণিজ্যিক নায়িকা ইমেজের বাইরে এসে কাজ করছেন। তার মতে, শুধু গ্ল্যামারনির্ভর বা নাচ–গানের সিনেমা নয়, বরং শক্ত গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমেই একজন শিল্পী দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘দিন শেষে আমি এমন একটি কাজ চাই, যেটা আমাকে তৃপ্তি দেবে। “শাস্তি”-এর চন্দরা চরিত্রটি আমার সেই চাওয়াটাই পূরণ করবে বলে বিশ্বাস করি।’
এছাড়া সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন পরীমণি। তিনি জানান, নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখন তিনি কেবল মানসম্মত ও অর্থবহ কাজেই মনোযোগ দিতে চান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের জন্য এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।