
শহীদ আসাদের ৫৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারা মহান এই শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ঢাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তার সঙ্গে ছিলেন সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাঈম, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন শাওন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মো. সাদ্দাম মীর, ফেরদৌস আলম, নূরুল আমিন নূর।
এ ছাড়া সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, প্রচার সম্পাদক মো. তানভীর হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আলফি লাম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক উবাইদুল্লাহ রিদওয়ানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, শহীদ আসাদ এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা আজও তরুণ প্রজন্মকে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আসাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করেই ছাত্রদল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাবে। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছাত্রদল সব সময় অগ্রভাগে থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, শহীদ আসাদুজ্জামান ১৯৬৯ সালের আইয়ুব খান বিরোধী গণআন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তার রক্তে রঞ্জিত শার্ট সে সময় গণআন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং স্বৈরশাসন পতনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। প্রতিবছর তার শাহাদাতবার্ষিকীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করে।