
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকায় আবারও ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–৭–এর একটি অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মেতালেব, যিনি প্রেষণে র্যাব–৭–এ কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন র্যাব সদস্য এবং র্যাবের এক সোর্স।
র্যাব–৭ সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় একটি অফিসে একাধিক আসামি আত্মগোপনে রয়েছে—এমন খবর পেয়ে ১৬ সদস্যের একটি র্যাব দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের অংশ হিসেবে চারজন সদস্য ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় চারদিক থেকে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার শুরুতেই সন্ত্রাসীরা নায়েব সুবেদার আব্দুল মেতালেবের ব্যবহৃত অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে তার পায়ে গুলি করে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ছিন্নমূল ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, চাঁদাবাজি, অবৈধ নির্মাণ ও সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও এই এলাকায় নতুন নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট একই এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই অভিযানে একটি সক্রিয় দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা শনাক্ত হয়। সেখান থেকে ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, ৩৫টি খালি কার্তুজ, পাঁচটি তাজা কার্তুজ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি, ওয়াকিটকি, মেগাফোনসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং চারজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছিল।
পরপর এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা আবারও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর সক্রিয় ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে।
র্যাব–৭–এর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের সময় চারপাশ ঘিরে ফেলা হলেও পরিস্থিতি ‘কন্ট্রোলড ফায়ার’-এর উপযোগী ছিল না। বেসামরিক ঝুঁকি বিবেচনায় র্যাব গুলি চালায়নি। অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর হামলাটি খুব দ্রুত ঘটে যায়।
র্যাব–৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, ছিন্নমূল এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল এখন অতিরিক্ত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান চলছে।