
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সংঘটিত এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কাবুলের শার-ই-নাও এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঘটনাস্থলটি বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এবং কাবুলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অঞ্চলগুলোর একটি বলে বিবেচিত।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, প্রাথমিকভাবে হতাহতদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিস্ফোরণের ধরন বা এর পেছনে কারা জড়িত—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে কাবুলে একটি হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে শার-ই-নাও এলাকায় তাদের হাসপাতালের কাছাকাছি বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে কাবুলের ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের পরপরই তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এলাকাটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে, বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে, বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমেছে। তবে দেশটিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)–সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝেমধ্যে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি ২০২৫ সালেও আফগানিস্তানে একাধিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে রাজধানীর তথাকথিত নিরাপদ এলাকাগুলোতেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায়।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা ও হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।