
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদফতর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এই অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান গলি সড়কসংলগ্ন খালপাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স জাবের প্লাস্টিক অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানার ভেতর থেকে পলিথিন তৈরির প্রায় তিন হাজার কেজি কাঁচামাল (পিপিই দানা) এবং ৭২০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যমতে, জব্দকৃত নিষিদ্ধ পলিথিনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই স্থানে কাঁচামাল ও প্রস্তুত নিষিদ্ধ পলিথিন পাওয়া যাওয়ায় সেখানে গোপনে পলিথিন উৎপাদনের জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব জানান, অভিযানকালে কারখানার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদফতর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের গোপন তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, জব্দ করা পলিথিন ও কাঁচামাল পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ে সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে কারখানার মালিক মো. জিয়া উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কারখানায় কোনো নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছিল না। অনুমোদন অনুযায়ী শুধু বৈধ প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে জব্দকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় কীভাবে এলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ প্লাস্টিক কারখানার আড়ালে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে পলিথিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।