
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কাবুলের শাহর-এ-নাও এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শাহর-এ-নাও এলাকা কাবুলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিদেশি নাগরিক, ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের বসবাস বেশি।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।’ তবে এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না কিংবা হামলার ধরন সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে আফগান টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শাহর-ই-নাও এলাকার একটি চীনা রেস্তোরাঁর কাছাকাছি বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়িই সম্ভবত হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন চীনা নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই তথ্যের বিষয়ে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নীল বাতি লাগানো একটি ট্রাকে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে অনেকেই এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করছেন।
বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী। শুরু করা হয় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীর একটি নিরাপদ এলাকায় এমন বিস্ফোরণ কাবুলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।