
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। রাজনৈতিক পেশিশক্তি কিংবা আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে এর প্রতিবাদে লাগাতার ও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি অভিযোগ করেন, শাকসু নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর এখন আদালতে রিটের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন বানচালের পূর্বপরিকল্পনা থাকায় সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ শুরু থেকেই এই নির্বাচনে তেমন কোনো প্রচারণা চালায়নি।
শিবির সভাপতি বলেন, যেখানে বেগম খালেদা জিয়া আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেখানে তার দলের লোকজন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন—এটি লজ্জাজনক। তিনি দাবি করেন, অতীতেও বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন বানচালে একই ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছে এবং সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের জন্য আদালতের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সরকার যদি অনমনীয় অবস্থান না নেয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। শাকসু নির্বাচন বানচাল হলে ছাত্রশিবির লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। তবে নির্বাচন বানচালের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ছাত্রদলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিএনপির অনেক প্রার্থী যখন ঋণ খেলাপির কারণে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে ছিলেন, তখন বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিতে শাকসু ইস্যু সামনে এনে ইসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। অথচ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানবে না।
এ ছাড়া তিনি জানান, ছাত্রশিবির আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।