
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান এবং নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি পৃথকভাবে এই নোটিশ প্রদান করে।
নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জোহা খানকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি ধামইরহাট ইউনিয়নের জগদ্দল স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি ‘প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিল’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বলেছেন, “বিএনপিতে ভোট দিলে তারেক রহমান সাহেব মহিলাদের ফ্যামেলি কার্ড দেবেন।” ওই বক্তব্যের ভিডিও নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির হাতে পৌঁছেছে। কমিটির মতে, এই বক্তব্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫-এর ১৮ বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে সামসুজ্জোহা খানকে আগামী ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সুরাইয়া বেগমের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সামসুজ্জোহা খান বলেন, তিনি একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন, তবে সেখানে ভোট চাননি। আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারীকে দেওয়া নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রচার শুরুর আগেই তার গাড়ির সামনে ‘ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা একটি পতাকা দেখা গেছে, যা বিচারিক কমিটির নজরে আসে। একই সঙ্গে ইকরামুল বারীর ছবি ও ‘ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা সম্বলিত ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার মান্দা উপজেলার বিভিন্ন দোকানে ঝোলানো রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। কমিটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন অপরাধ আমলে নিয়ে বিচারকার্য শুরু করা হবে না—সে বিষয়ে ইকরামুল বারীকে আগামী ২২ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁর আত্রাই সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. শিমুল সরকারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ইকরামুল বারী বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে কিছু ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল এবং বর্তমানে গাড়ির বোনেটে কোনো ব্যানার নেই। তার দাবি, আগে তোলা ছবি ব্যবহার করে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত যেহেতু ব্যাখ্যা চেয়েছেন, তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।