
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করেছে। দলটি ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাকি ৩২টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্য থেকে সৎ, যোগ্য ও জনতার প্রতি দায়বদ্ধ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, আদর্শিক অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরেছে। তবে বাকি ৩২টি আসনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এসব আসনে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যিনি সৎ, দক্ষ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ—তাঁকেই সমর্থন জানানো হবে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ২০ জানুয়ারির পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রতীক ‘হাতপাখা’ থাকবে না, সেসব ৩২ আসনের সমর্থনের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী ১১ দলীয় জোটে জামায়াত ও এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে থাকার কথা ছিল। তবে পরে দলটি জোট থেকে বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে সর্বশেষ জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার পথ এখনো খোলা রয়েছে।
জোট থেকে সরে যাওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে প্রার্থী দিলেও বাকি ৩২ আসনে দলটির পক্ষ থেকে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এই কৌশল একদিকে দলীয় শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়—আলোচনার মাধ্যমে কোন কোন প্রার্থী এই ৩২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন পান।