
অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীতশিল্পী এ আর রহমানের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বলিউডে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। রহমানের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত।
বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি দেওয়া এ আর রহমানের এক সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গত আট বছরে তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ হারিয়েছেন। এর পেছনে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে থাকা কুসংস্কার, পক্ষপাতিত্ব এবং ধর্মীয় বিভাজনকে দায়ী করেন তিনি।
রহমান বলেন, “গত আট বছরে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই এসব ঘটছে। ক্ষমতা এখন এমন কিছু মানুষের হাতে, যারা সৃজনশীল নন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনও একটি কারণ হতে পারে। যদিও এসব কথা কেউ সরাসরি আমার মুখের ওপর বলেনি।”
রহমান কারও নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্যে রাজনৈতিক দল বিজেপির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত।
কঙ্গনা রহমানের বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “প্রিয় রহমানজি, আমি বিজেপিকে সমর্থন করি বলেই ইন্ডাস্ট্রিতে পক্ষপাত ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও বলতে হচ্ছে, আপনার মতো পক্ষপাতদুষ্ট ও ঘৃণ্য মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি।”
নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ইমার্জেন্সি’ প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কঙ্গনা। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে তিনি পরিচালক ও প্রযোজকের পাশাপাশি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে প্রায় ৬০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ছবিটি মুক্তির পর আয় করতে পেরেছে আনুমানিক ১৭ কোটি রুপি।
এই সিনেমার প্রসঙ্গে কঙ্গনা জানান, একসময় তিনি ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির চিত্রনাট্য এ আর রহমানকে শোনাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রহমান শুধু চিত্রনাট্য পড়তেই অস্বীকৃতি জানাননি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও রাজি হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কঙ্গনার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, এ আর রহমান কোনো একপেশে বা প্রচারমূলক সিনেমার অংশ হতে চান না। বিষয়টিকে নিজের প্রতি বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে কঙ্গনা বলেন, রহমানের বর্তমান অভিযোগ আসলে দ্বিচারিতারই প্রকাশ।
এই বিতর্ক ঘিরে বলিউডে রাজনীতি, ধর্ম ও শিল্পের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ রহমানের বক্তব্যকে শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কঙ্গনার অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। বিতর্কটি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।