
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) আত্মপক্ষ সমর্থনের শুরুতেই রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে মায়ানমার। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণে গাম্বিয়া পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও দাবি করেছে দেশটি।
শুক্রবার দ্য হেগে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মায়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং আইসিজের বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জেলো আদালতে বলেন, মায়ানমার একটি ‘গণহত্যামূলক নীতি’ অনুসরণ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন চালানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানের ফলে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নির্বিচার হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ এবং গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন।
জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তদন্ত শেষে জানায়, ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে এটি ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।
২০১৯ সালে আইসিজেতে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মায়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার আনা গণহত্যার অভিযোগগুলোকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ‘দায়বদ্ধতার বোধ’ থেকেই তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এই পদক্ষেপ নেয় বলে দাওদা জেলো আদালতকে জানিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বহু দশক ধরে কাঠামোগত নির্যাতন ও ঘৃণামূলক প্রচারের শিকার হয়েছে, যার পরিণতিতেই সামরিক অভিযান চালানো হয়। গাম্বিয়ার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, নারী, শিশু ও বয়স্কদের হত্যা এবং পুরো গ্রাম ধ্বংস করাকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বলা যায় না।
এই মামলায় গাম্বিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৭ দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর সমর্থন পেয়েছে। আইসিজেতে এই মামলার শুনানি চলমান রয়েছে।