
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন পিসি গার্ডার সেতুটি এখনো যানবাহন চলাচলের জন্য কার্যকর হয়নি। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক পাকা না করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা কাঠামো স্থাপন না করায় প্রতিদিন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী থেকে গোপালপুর হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক তারাকান্দি–ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিংনা এলাকায় যুক্ত হয়েছে। এই সড়কের ঝাওয়াইল বাজার এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর আগে একটি বেইলি সেতু ছিল।
সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সেখানে প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২৪ সালের শুরুতে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন কাজটি পায়।
এই সড়ক দিয়ে আগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা এবং এখনো অসম্পূর্ণ কাজ থাকায় টানা দুই বছর ধরে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে পণ্য পরিবহন, যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুর পূর্ব পাড়ে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। বিশেষ করে শুক্রবার ও ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক এখানে আসেন। কিন্তু সেতুর কাজ চলমান থাকায় নদের পশ্চিম পাড়ে কোনো যানবাহন যেতে পারছে না।
তিনি জানান, বর্ষাকালে নৌকায় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষকে পারাপার হতে হয়। নদের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ঝাওয়াইল বাজারসহ একটি বয়েজ ও একটি গার্লস হাইস্কুল, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা, দুটি ব্যাংক, একটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তহশিল অফিস, পোস্ট অফিস এবং তিনটি এনজিও কার্যালয়। পূর্ব পাড়েও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অফিস কর্মচারী ও পর্যটককে নদ পার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়কে শুধু বালু ফেলে কাজ বন্ধ রেখেছে। এতে বড় যানবাহন তো দূরের কথা, ছোট যানবাহন ও পথচারীরাও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদার কামাল হোসেন বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই চাঁদাবাজির মুখে পড়তে হয়েছে। শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় কয়েক দফা কাজ বন্ধ রাখতে হয়। তিনি আরও বলেন, সেতুর মূল কাজ প্রায় শেষ হলেও সওজের পক্ষ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সেতুর দুই পাশে ১২০ মিটার নালা নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন এবং সংযোগ সড়ক পাকাকরণ এখনো বাকি রয়েছে।
এ বিষয়ে সওজ মধুপুর উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘পিএমপি (মেজর সেতু-কালভার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদের ঝাওয়াইল ব্রিজের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সড়কের উভয় পাশে কিছু খাসজমি দখল হয়ে আছে। এসব জমি উদ্ধারে গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জমি উদ্ধার হলেই সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করা যাবে।’
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেতুটি দ্রুত চালু করা জরুরি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে খাসজমি উদ্ধারের মাধ্যমে দ্রুত সেতুর বাকি কাজ শেষ করা হবে।