
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে যাওয়ার পর জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিষয়ে জামায়াত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন যদি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তাহলে বাকি ৪৭টি আসনে জোটভুক্ত অন্যান্য দল প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়ের বলেন, আজকের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনি সফর চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ২০ জানুয়ারি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) ওলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও নিন্দা জানায় জামায়াত। দ্রুত ওই মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট জুবায়ের।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০ দল ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসনে, খেলাফত মজলিস ১০টি আসনে এবং এলডিপি ৭টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি এবং নেজাম ইসলাম পার্টি ২টি আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তবে শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি বাকি ৩২টি আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি বাদে সমমনা দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানায় দলটি।