
পাবনায় চাঞ্চল্যকর অনুকূলচন্দ্র আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন সাহা পান্ডে হত্যা ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্তাজ আলীর হাত কাটা মামলার অন্যতম আসামি জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘কিলার জাহিদ’কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম পাবনা সদর উপজেলার কাশিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চু সরদারের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল পাবনা পৌর এলাকার দিলালপুর মহল্লার বজলুল হক রোডে নাজমুন্নাহারের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ওই ফ্ল্যাটের গেস্ট রুম থেকে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কিলার জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, অভিযানে একটি দুই নলা ওয়ান শুটার গান, একটি এক নলা ওয়ান শুটার গান, একটি ১২ বোর কার্তুজ, একটি ধারালো তলোয়ার, একটি ধারালো চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি .২২ বোর রিভলভারের রিভলভিং চেম্বার, তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার, দুইটি লোহার স্প্রিং, একটি ইলেকট্রিক ড্রিল মেশিন এবং একটি হ্যাকসো ব্লেড জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব সরঞ্জাম দিয়ে অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ওসি রাশেদুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেপ্তার জাহিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের আলোচিত পাবনা হেমায়েতপুর শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন সাহা পান্ডে হত্যা মামলা এবং হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্তাজ আলীর হাত কেটে দেওয়ার মামলা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক সংশ্লিষ্ট মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাগুলোর তদন্তেও এই গ্রেপ্তার সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।