
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিতর্কিত পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির কাছে তিনি কোনো উত্তর জমা দেননি বলে বোর্ড সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বোর্ডের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলই চূড়ান্তভাবে জানাতে পারবেন। আপাতত বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের ভেতরে আলোচনা চলছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কিছুদিন আগে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও পারিশ্রমিক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন এম নাজমুল ইসলাম। তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কঠোর অবস্থান নেন। এমনকি বিপিএলের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তও আসে আলোচনায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিসিবি বাধ্য হয়ে নাজমুলকে তার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশ অনুযায়ী শনিবার (নির্ধারিত দিন) বেলা ১১টার মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শুধু জবাব না দেওয়াই নয়, বরং কেন এ ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে—তা নিয়েই তিনি বোর্ডের কাছে প্রশ্ন তোলেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে চাননি।
বোর্ডের এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শোকজের জবাব না এলে বিসিবি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, “প্রক্রিয়া মেনেই বোর্ড এগোবে। এখানে ব্যক্তির চেয়ে নিয়মই বড়।”
এদিকে, মাঠে ফেরার আগে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি ছিল—বিতর্কিত পরিচালক নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ। তবে বিসিবি শুরু থেকেই জানিয়েছিল, শোকজ নোটিশের পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে কারণে ক্রিকেটারদের ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতেও বলা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময় পার হলেও নাজমুল ইসলাম কোনো জবাব না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বোর্ডের ভেতরে তাকে বোঝানোর জন্য একাধিক পরিচালক চেষ্টা চালালেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শোকজ—এই দুই ঘটনাই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার শোকজের জবাব না দেওয়ার পর বিসিবি কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।