
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব এবং শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কখনোই বিতর্কিত নয়। তবে গত ১৭ বছর ধরে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুদ্দিন অপু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতারা সরাসরি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সেই দিক থেকে বিএনপিই একমাত্র দল, যার প্রতিষ্ঠাতা নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিএনপির দায়বদ্ধতা ঐতিহাসিক ও নৈতিক—উভয় দিক থেকেই গভীর।
নুরুদ্দিন অপু বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি দল দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়করণ করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য বাস্তবভিত্তিক এবং সম্মানজনক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তার ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, আবাসন এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিএনপির সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
নুরুদ্দিন অপু আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান হিসেবে তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষভাবে শ্রদ্ধাশীল। মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।