
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ওই বক্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত ‘স্লিপ অব টাং’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুফতি আমির হামজা মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক পোস্টে আমির হামজা বলেন, ওই বক্তব্যটি সম্ভবত ২০১৯ বা ২০২৩ সালের কোনো এক সময় চট্টগ্রামের একটি তাফসির মাহফিলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, নামের সৌন্দর্য বোঝাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত হয়ে যায়। তবে তখনই তিনি ভুলটি সংশোধন করে নিয়েছিলেন এবং প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ভুল হলে তা স্বীকার করাই মানুষের স্বাভাবিক দায়িত্ব। ভুল স্বীকারের মধ্যে কোনো লজ্জা নেই। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়—এই মন্তব্য করে তিনি জানান, ওই ঘটনার পরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে তিনি লাইভে এসে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল।
আমির হামজা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে এমন দু-একটি ‘স্লিপ অব টাং’ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে লিখিত প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ক্রীড়া সংগঠক ও প্রয়াত নেতা আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করেছেন। তিনি এ ধরনের ভাষাকে অশালীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার জানান, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।