
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ‘বাংলা চ্যানেল’ নামে পরিচিত সাগরপথ সাঁতরে পার হওয়ার চ্যালেঞ্জে নেমেছেন দুই নারীসহ মোট ৩৫ জন সাঁতারু। প্রায় ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাঁতার প্রতিযোগিতা শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়।
শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে সাঁতার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দীন। প্রতিযোগিতা শেষে সাঁতারুরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করেছে অ্যাডভেঞ্চার সংগঠন ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’।
এবারের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য শুরুতে ৩৭ জন সাঁতারু নিবন্ধন করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন ৩৫ জন। এর মধ্যে দুইজন নারী সাঁতারুও রয়েছেন, যা প্রতিযোগিতাটিকে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তুলেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ডাকসুর সাবেক সদস্য ও অভিজ্ঞ সাঁতারু সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি এর আগে ছয়বার সফলভাবে বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করার পাশাপাশি একবার একটানা ডাবল ক্রস সম্পন্ন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিনি ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
সাঁতার শুরুর আগে সাইফুল ইসলাম রাসেল জানান, প্রতিকূল সাগর পরিস্থিতি থাকলেও এবারও তার লক্ষ্য সবার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো। তিনি বলেন, ‘আগেও একাধিকবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও সেরা ফলের আশায় নামছি।’
এবারের প্রতিযোগিতায় আরও অংশ নিয়েছেন বাংলা চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী সাঁতারু এমএসটি সোহাগী আক্তার। তার অংশগ্রহণ নারী সাঁতারুদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল অতিক্রমকারী সাঁতারু এবং ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এবারের সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি সাঁতারুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক বোট, উদ্ধারকর্মী এবং পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন রয়েছে।
লিপটন সরকার আরও বলেন, বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতেই এই ধারাবাহিক আয়োজন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। পাশাপাশি ‘ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি’ রয়েছে পাওয়ার্ড বাই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা ও সরকার এগ্রো।
আয়োজকদের আশা, নিরাপদ ও সফলভাবে প্রতিযোগিতা শেষ হলে বাংলা চ্যানেল সাঁতার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে।