
হলিউড অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্কের নতুন সিরিজ ‘পোনিজ’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম পিককে প্রচারিত এই সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি এক বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছেন চারবারের এমি মনোনীত এই অভিনেত্রী।
শুটিং চলাকালে একাধিক অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে শারীরিকভাবে গুরুতর চাপে পড়তে হয়েছিল বলে জানান এমিলিয়া। এমনকি একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় তার পাঁজরের একটি হাড় সরে যায় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মার্কিন গণমাধ্যম দ্য র্যাপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমিলিয়া ক্লার্ক বলেন, ‘পোনিজ’ সিরিজে বিয়া চরিত্রে অভিনয় করা ছিল মানসিক ও শারীরিক—দুই দিক থেকেই বেশ চ্যালেঞ্জিং। শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ের পটভূমিতে নির্মিত এই সিরিজে বিয়া এমন এক নারীর চরিত্রে হাজির হন, যিনি গোপন তথ্য আদায়ের জন্য প্রভাবশালী কেজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এই চরিত্রের কারণে সহ–অভিনেতাদের সঙ্গে একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয় এমিলিয়াকে। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘একটানা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেদিনই আমার পাঁজরের হাড়ে চোট লাগে।’
সিরিজে আরেক সিআইএ এজেন্ট টুইলা চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী হ্যালি লু রিচার্ডসনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি—এমিলিয়ার পাঁজরের হাড়ে আঘাত লেগেছিল। ও শারীরিকভাবে খুব সংবেদনশীল গড়নের, তাই এমনটা হওয়াই সম্ভব ছিল।’
চোট পাওয়ার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় এমিলিয়াকে। সেখানে তাকে জানাতে হয় যে, শুটিংয়ের সময় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়েই এই আঘাত পেয়েছেন। যদিও পরে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তার পাঁজরের হাড় পুরোপুরি ভাঙেনি, তবে স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা সরে গিয়েছিল।
‘পোনিজ’ সিরিজের কাহিনিতে দেখা যায়, ১৯৭৭ সালে মস্কোয় মার্কিন দূতাবাসে সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন বিয়া ও টুইলা। স্বামীদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তারা দুজনেই ছদ্মবেশে সিআইএ এজেন্ট হিসেবে বিপজ্জনক গোপন অভিযানে যুক্ত হন।
এই সিরিজের মাধ্যমে এমিলিয়া ক্লার্ক আবারও প্রমাণ করেছেন, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শারীরিক সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করতে প্রস্তুত।