
২০২৫ সালে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ চুক্তিভিত্তিক সেনা হিসেবে রুশ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বৈঠকে মেদভেদেভ জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও তরুণদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে না।
তবে এই স্বেচ্ছাসেবক সেনাদের মধ্যে কতজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওগুলোতে রুশ সেনা পোশাক পরিহিত কয়েকজন ইরাকি তরুণকে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইরাক সরকার জানিয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ইরাকি নাগরিকদের যোগদানের বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে গত বছর ইরাকি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি স্বীকার করে যে, কিছু ইরাকি নাগরিক ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালালচক্র ইরাকের তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে। কম খরচে ও কিস্তিতে ভ্রমণের সুযোগের কথা বলে তাদের সেখানে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে অনেকেই রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন।
রুশ আইনে বলা হয়েছে, যারা বৈধভাবে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন—সে বিদেশি নাগরিকরা চাইলে সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারেন। এই চুক্তির আওতায় সেনাদের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া সেনা শক্তি ধরে রাখতে এবং বাড়াতে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করছে।