
ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর এক কিশোরী ও তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ পেশায় একজন মুহুরি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ফাতেমা নিয়মিত প্রাইভেট পড়তে মুক্তিরবাগ এলাকার শামীম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে যায়। ওই ফ্ল্যাটে তার গৃহশিক্ষিকা মিম বসবাস করতেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রাইভেট শেষ করে ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়। তবে একই সময় তার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
এরপর থেকে মা-মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পাওয়ায় ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহীন আহম্মেদ। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ফল ছাদ থেকে কিশোরী ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমরা ধারণা করছি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।