
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্তও দলটির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ‘অভিমানী’ ও বিদ্রোহী নেতারা। ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির নেতারা এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এসব নেতাকে বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ১১ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে। সে লক্ষ্যেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিচ্ছে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
জোট রাজনীতির বাস্তবতায় বিএনপি এবার শরিক দলগুলোর জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। নিবন্ধিত শরিকরা নিজ নিজ প্রতীকে এবং অনিবন্ধিত শরিকরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তবে কিছু আসনে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশাপাশি জোট প্রার্থীর উপস্থিতি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। বিষয়টি নিয়ে জোটের মধ্যে কোনো ভুল বার্তা না যায়—সে ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক বিএনপি।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরাতে আঞ্চলিকভাবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় কয়েকজন বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানের পাশাপাশি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে ভবিষ্যতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের আব্দুল খালেক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা-১৪ আসনের এসএ সিদ্দিক সাজু এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ফলে সাজুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪, মাদারীপুর-৩ ও ভোলা-১ আসনে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবুও কিছু এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকায় তৃণমূলে দ্বিধা ও বিভ্রান্তি কাটেনি বলে মনে করছেন জোট নেতারা।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখাবেন না, ভবিষ্যতে তাদের জন্য দলের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। দলীয় শৃঙ্খলা ও জোটের ঐক্য রক্ষাই এখন বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার।