
গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে তারা গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা এই প্রচারণা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রচার কার্যক্রমের আওতায় উপদেষ্টারা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং সরাসরি জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় গণভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ, এর উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে গণভোটে অংশগ্রহণ করা যাবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব মতবিনিময় সভার মাধ্যমে গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। অন্তর্বর্তী সরকার মনে করছে, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণের মতামত সরাসরি প্রতিফলিত হয়।
প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপদেষ্টারাও নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় গিয়ে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট সম্পর্কে জানতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট নিয়ে এ ধরনের সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রচারণা জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে যারা গণভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না, তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে।