
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলসংক্রান্ত হুমকির পর ইউরোপের একাধিক দেশ সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অনুসন্ধানমূলক সামরিক মিশনের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ডেনমার্কের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে ১৩ সদস্যের একটি বুন্দেসভেয়ার রেকি (রিকনেসান্স) দল মোতায়েন করা হবে। এই দলটি মূলত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় সুইডেন ও নরওয়েও গ্রিনল্যান্ডে সামরিক কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চলমান এই অনুসন্ধানমূলক মিশনের লক্ষ্য হলো, অঞ্চলটির নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ককে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য সামরিক অবদান নির্ধারণ করা।
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মূল্যায়নের আওতায় সামুদ্রিক নজরদারির মতো কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ফ্রান্সও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সমন্বিত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসে, যা গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।