
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল কর্মী নিয়োগ এজেন্সিসের (বায়রা) ২০২৬–২০২৮ মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই স্থগিতাদেশ দেন।
এর ফলে আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় বায়রার নির্বাচন আপাতত আর হচ্ছে না। যদিও এর আগের দিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালনের শর্তে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে বায়রার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন নির্ধারিত তারিখে আয়োজন করা যাবে। কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী, ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের (বিসিসিসি) সেলিব্রিটি হলে নির্বাচনের আয়োজনের কথা ছিল।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধও জানিয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে ইসির দেওয়া সেই অনুমোদন কার্যত স্থগিত হয়ে গেল।
এদিকে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমের হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সম্মতি দেয়। বিষয়টি ইসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে গত ১২ জানুয়ারি দেশের সব পেশাজীবী সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠনকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের সাংগঠনিক নির্বাচন না করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষকেও তা অনুসরণের কথা জানানো হয়।
তবে সেই নির্দেশনার মাত্র দুই দিনের মাথায় বায়রার নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় ইসি, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে বায়রার নির্বাচন প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
এই পরিস্থিতিতে বায়রার নির্বাচন ঘিরে ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।