
ক্রিকেটারদের টানা আন্দোলন ও দাবির মুখে অবশেষে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এম নাজমুল ইসলামকে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জরুরি অনলাইন বোর্ড সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের পরও নাজমুল ইসলাম আপাতত বিসিবির পরিচালক পদে বহাল থাকছেন। কারণ বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো পরিচালককে সরানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—পরিচালকের মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তি, অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়া, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা অথবা নিজ থেকে পদত্যাগ করা।
বোর্ড সূত্র জানায়, উল্লিখিত প্রথম পাঁচটি শর্তের কোনোটিই এম নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আইনগতভাবে তাকে পরিচালক পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়। তবে বোর্ডের একাধিক সদস্য মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তার নিজ থেকে সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
এর আগে এম নাজমুল ইসলামের একাধিক মন্তব্য ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের আয়, অবদান ও পেশাগত ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়। এসব মন্তব্যকে অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন অনেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার।
এই প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব), জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং অধিনায়করা প্রকাশ্যে নাজমুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনে তার পদত্যাগের দাবিও জোরালোভাবে ওঠে।
ক্রিকেটারদের ক্ষোভের প্রভাব পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিপিএল আয়োজনেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিসিবির ভেতরেও চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বোর্ড তার অর্থ কমিটির দায়িত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ক্রিকেটারদের দাবির প্রতি একটি আংশিক সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে পুরো সংকটের সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ক্রিকেট অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, নাজমুল ইসলামের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।