
বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলমান অচলাবস্থা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশ নেওয়া ছয় দলের বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা আজ রাজধানীর শেরাটন হোটেলে একত্র হচ্ছেন। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) জানিয়েছে, দুপুর ১টায় সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা তাদের পরবর্তী অবস্থান ও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
কোয়াবের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের প্রেক্ষাপটে। ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে দেওয়া আলটিমেটামের পরও তিনি পদত্যাগ না করায় বিপিএলের নির্ধারিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটারদের সংগঠনটি। এর পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও অবস্থান স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ঘিরে দেওয়া একটি মন্তব্যের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এম নাজমুল ইসলাম। এরপর ক্রিকেটারদের বেতন ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তার ব্যবহৃত ভাষাকে ক্রিকেটাররা অবমাননাকর বলে দাবি করছেন।
এই ঘটনার পরপরই কোয়াব প্রতিবাদ জানিয়ে ঘোষণা দেয়, বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বিসিবির কয়েকজন পরিচালক ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন।
বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে দলগুলোর মাঠে উপস্থিত থাকার কথা। আজ দুপুর ১টায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচ নির্ধারিত থাকলেও দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো দলই শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছায়নি। এতে আজকের ম্যাচ আয়োজন নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাঠে যাওয়ার পরিবর্তে ক্রিকেটাররা জড়ো হচ্ছেন রাজধানীর শেরাটন ঢাকায়। সেখানে প্রথমে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করবেন তারা। এরপর দুপুর ১টায় শেরাটনের একটি হলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব তাদের দাবি, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের এই উত্তেজনা বিপিএলের আজকের সূচি ও পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন শেরাটনের সংবাদ সম্মেলনের দিকে, যেখানে বিপিএলের পরবর্তী পথরেখা পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।