
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে সংঘটিত আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তি উপস্থাপন বা আর্গুমেন্ট শুরুর দিন নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এই ধাপের মধ্য দিয়ে মামলার রায় ঘোষণার পথ আরও সুস্পষ্ট হলো।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশন পক্ষে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউশনের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উপস্থাপিত নথিপত্রের ভিত্তিতে এখন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার মাধ্যমে বিচারিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেয়। বর্তমানে এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলসহ মোট ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার সময় তিনি নিরস্ত্র অবস্থায় দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন—যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও তীব্র রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়েছেন তার পরিবার, সহপাঠী এবং সাধারণ ছাত্রসমাজ। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।