
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেন। তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে এম নাজমুলকে তার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় ক্রিকেটাররা বিপিএলসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না।
কোয়াব সভাপতি বলেন, “এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য ক্রিকেটারদের সম্মান ও পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। একজন বোর্ড পরিচালকের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রতিবাদেই আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।”
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এম নাজমুল ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা খারাপ খেললেও তাদের বেতন বা ফি কাটা হয় না। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে দল না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া ক্রিকেটারদের সম্মানি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা খেলতে গিয়ে কিছুই না করতে পারলে আমরা যে এত কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি টাকা ফেরত চাই?” তিনি আরও মন্তব্য করেন, ক্রিকেট বোর্ড হলো শরীর আর ক্রিকেটাররা তার অঙ্গ—বোর্ড ছাড়া ক্রিকেটারদের কোনো অস্তিত্ব নেই।
এই বক্তব্যের পরপরই কোয়াব জুম প্ল্যাটফর্মে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নাজমুলের পদত্যাগ দাবি করে। ক্রিকেটারদের মতে, এসব মন্তব্য শুধু অসম্মানজনকই নয়, বরং ক্রিকেটারদের পেশাগত মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে।
এর আগে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এম নাজমুল। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তামিমের মন্তব্যের জেরে তাকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন তিনি। তখনও কোয়াব এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত। বোর্ড এ ধরনের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, তাকে বোর্ডের মুখপাত্র করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এমন বক্তব্য ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী এবং বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন, কেবল দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। বোর্ড পরিচালকের দায়িত্বে থেকে এ ধরনের মন্তব্যের দায় এড়ানো যায় না। তাই পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিকল্প তারা দেখছেন না।
এখন নজর বৃহস্পতিবারের দিকে—নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ করেন কি না, নাকি বিপিএলসহ দেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট।