
ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে সেনা সদস্যের সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। পশ্চিমা সামরিক সূত্রগুলো বলছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ও নিরাপত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
মার্কিন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা সেনাদের একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ওই ঘাঁটি থেকে কিছু ব্রিটিশ সেনাকেও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
কাতার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে তেহরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এখান থেকে পুরো অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে এই ঘাঁটিতে সেনা সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বা পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।