
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আলোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন নবীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের বেদনাবিধুর স্মৃতি ও প্রতিজ্ঞা বুকে নিয়ে তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিতে শপথ গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অন্যান্য রিক্রুটদের সঙ্গে সৈনিক হিসেবে শপথ নেন আরফান হোসেন।
শপথ গ্রহণের পর আরফান বলেন, তার জীবনের একমাত্র প্রত্যাশা—আর কোনো পরিবার যেন তার বোন ফেলানীর মতো সন্তান হারানোর বেদনা না পায়। সীমান্তে তার বোনকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই ভয়াবহ দৃশ্য আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে জানান তিনি।
আরফান বলেন,
‘আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হোক। কোনো বাবা-মা যেন এভাবে তাদের সন্তান হারান—এই অঙ্গীকার নিয়েই আমি আজ সীমান্তরক্ষী হিসেবে শপথ নিলাম।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরফানের বিজিবিতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন—‘আলহামদুলিল্লাহ’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং অনেকেই আরফানের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা জানান।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ঘটনাটি সীমান্ত হত্যার প্রতীক হয়ে ওঠে এবং দুই দেশের সম্পর্কেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সেই ঘটনার এক যুগেরও বেশি সময় পর ফেলানীর ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান অনেকের কাছে এক ধরনের নৈতিক প্রতিরোধ ও প্রতিজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে আর কোনো ফেলানীর রক্ত ঝরুক—এই সংকল্প নিয়েই তিনি এখন দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত হতে যাচ্ছেন।