
রাজধানীর নতুন প্রবেশমুখ পূর্বাচলে ৩০০ ফিট নামে পরিচিত ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে সরকারি অনুমোদন (রুট পারমিট) ছাড়াই বেসরকারি বাস চলাচল শুরু হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে—এ কারণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) শুরু থেকেই অতিরিক্ত যান চলাচলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সড়ককে কেন্দ্র করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণাধীন ‘সাসেক’ প্রকল্প এলাকায় ট্রাফিক চাপ বাড়লে কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
রাজউকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বর্তমানে এই এক্সপ্রেসওয়েতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস চলাচল করছে। বিআরটিসির হিসাবে, এ রুটে চলাচলরত বাস থেকে সরকার দৈনিক প্রায় ৮ লাখ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। কিন্তু অনুমোদনহীন বেসরকারি বাস নামায় একদিকে এক্সপ্রেসওয়ের শৃঙ্খলা নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া চালু হওয়া বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ করতে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বাস চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার আগে বিআরটিসির আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিআরটিসির জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ব্যবস্থাপক (পরিচালন) মো. মফিজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিআরটিসি বর্তমানে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ইটাখোলা এবং কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত ৩০০ ফিট হয়ে বাস সার্ভিস পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে শাটল সার্ভিসও চলছে। অথচ ‘নীলাচল’ ও ‘ঢাকা চাকা’ নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস এই রুটে চলাচলের চেষ্টা করছে—যেখানে নীলাচলের রুট পারমিট নেই এবং ঢাকা চাকার তিনটি বাস চালানোর অনুমতি আদালতে বিচারাধীন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না এবং চললে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের বিআরটিসি কর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও ট্রাফিক পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে এসব অনুমোদনহীন বাস চলাচল চালু রাখা হয়েছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, রাজউক এখনো সড়কটি হস্তান্তর করেনি, প্রকল্প চলমান। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিআরটিসির রুট পারমিট না লাগলেও তারা রাজউকের অনুমতি নিয়ে বাস চালাচ্ছে। বেসরকারি বাসকে রাজউক অনুমোদন দেয়নি এবং বিআরটিএও এখনো রুট পারমিট দেয়নি—তবুও বাস চলাচল উদ্বেগজনক।
বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, এই পথে ৬০টি বাস চলে—এর মধ্যে ৩০টি এসি ও ৩০টি নন-এসি, বেশিরভাগই আর্টিকুলেটেড। এসব বাস বন্ধ হয়ে গেলে সরকার মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নথি অনুযায়ী কয়েকটি কোম্পানিকে বিভিন্ন রুটে বাস চালানোর ‘সিলিং অনুমোদন’ দেওয়া হলেও এখনো ‘রুট পারমিট’ দেওয়া হয়নি। বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাস্তব শর্ত ও চাহিদার চেয়ে অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ বেশি প্রভাব ফেলে—ফলে বিষয়টি সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।