
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলসংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনা আপাতত বন্ধ থাকছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা, ভারতীয় অর্থায়নে চলমান প্রকল্প এবং বার্ষিক আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক—সবকিছুই স্থগিত থাকছে ভোটের পর পর্যন্ত। ফলে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশ–ভারত রেল যোগাযোগে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দিক থেকে এখন কোনো বৈঠক হবে না। সবকিছু মিলিয়ে আন্তঃসরকার বৈঠকের পরিস্থিতি নেই। যা হওয়ার, সব ভোটের পর হবে। আপাতত সবকিছু বন্ধ থাকবে।”
প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘ইন্ট্রা-গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিং’ (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় ৩৮তম বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভোটের আগে আন্তঃসরকার বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই।
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আসন্ন আন্তঃসরকার বৈঠককে কেন্দ্র করে মৈত্রী, মিতালি ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সরকার। আপাতত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতকে কোনো নতুন চিঠি দেওয়া হচ্ছে না। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান—এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত সরকার।
বর্তমানে ভারতীয় অর্থায়নে রেলখাতে ছয়টি অবকাঠামো প্রকল্প চলমান ছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ভারত ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই তিনটির মধ্যে দুটি প্রকল্প অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি বাতিল করেছে। অপর একটি প্রকল্পের জন্য বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়েতে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আইজিআরএম–এর প্রস্তুতিমূলক সভায় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৩ অক্টোবর সভার কার্যবিবরণীতে রেল সচিবের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তও করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৈত্রী, মিতালি ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালু, যাত্রীবাহী ট্রেনে লাগেজ ভ্যান সংযুক্ত করা এবং রাজশাহী–কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে প্রস্তাব পাঠানোর কথা ছিল।
এ ছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও ছিল। রাতে ট্রেন পরিচালনা ও আপ লাইনে ক্রসওভার নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। তবে ভোটের আগে এসব পরিকল্পনার কোনোটিই আর এগোচ্ছে না।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে সাড়া মেলেনি। পরে ১৯ আগস্ট পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেয় ভারত।
সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশ–ভারত রেল যোগাযোগে স্থবিরতা বজায় থাকছে। ভোটের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তখনই এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।