
জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের মেয়েদের দলগত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দুই শক্তি। একদিকে বাংলাদেশ আনসারের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সোনম সুলতানা ও সাদিয়া রহমান, অন্যদিকে বিকেএসপির তরুণ ও উদীয়মান শক্তি খইখই মারমা ও রেশমিরা। পাঁচ ম্যাচের টানটান লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়েছে বিকেএসপিকে।
ফাইনালের প্রথম ম্যাচেই চমক দেখান বিকেএসপির খইখই মারমা। মেয়েদের টেবিল টেনিসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সোনম সুলতানাকে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। উঠতি তারকা খইখই বড় ম্যাচে সাহসী পারফরম্যান্স দেখালেও সেটিই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হয়নি।
দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ আনসারকে সমতায় ফেরান সাদিয়া রহমান। বিকেএসপির রেশমিকে হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। তৃতীয় ম্যাচে আনসারের মাহি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিকেএসপির সিগমাকে ৩–০ সেটে পরাজিত করেন। টানা দুই জয়ে ম্যাচের পাল্লা আনসারের দিকে হেলে পড়ে।
চতুর্থ ম্যাচে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে আবার মুখোমুখি হন সাদিয়া রহমান ও খইখই মারমা। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে দ্বৈতে রুপাজয়ী খইখইকে ৩–১ সেটে হারিয়ে আনসারের শিরোপা নিশ্চিত করেন সাদিয়া। ফলে পঞ্চম ম্যাচে যাওয়ার প্রয়োজনই হয়নি।
এই জয়ে বাংলাদেশ আনসারের প্রথম দলগত শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে। শিরোপা জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন সাদিয়া রহমান, যিনি দুই ম্যাচ জিতে দলের সাফল্যে বড় অবদান রাখেন।
অন্যদিকে বিকেএসপির জন্যও এবারের আসরটি ছিল ইতিবাচক। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েই শিরোপার লড়াইয়ে উঠে আসা তাদের জন্য বড় অর্জন। খইখই ও রেশমি এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে খেললেও এবার বিকেএসপির হয়ে খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তরুণ দলটিকে।
এদিকে জাতীয় টেবিল টেনিসে ছেলেদের দলগত বিভাগে এখনো শেষ চারের লড়াই বাকি রয়েছে।