
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা বন্ধ হয়নি—এমন উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১০০ শিশু নিহত হয়েছে। এই হতাহতের বেশির ভাগই বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ফল।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর মুখপাত্র জেমস এল্ডার এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গত অক্টোবরের প্রথম দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হয়। কিন্তু এরপরের তিন মাসে সেখানে সহিংসতা থামেনি। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়কালে ১০০ জনের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিদিন গড়ে একজন করে শিশু নিহত হয়েছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
জেমস এল্ডার বলেন, নিহত শিশুদের মধ্যে অনেকেই বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় বসতবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুদের প্রাণহানি বাড়ছে।
ইউনিসেফ মুখপাত্র আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির অর্থ হওয়া উচিত ছিল শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ও স্বস্তি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকায় শিশুরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে বা গুরুতর আহত হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, চলমান হামলার কারণে গাজায় শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিশু পরিবার হারিয়েছে, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে।
ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গাজায় প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণ, বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির পরও শিশু হত্যার এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। তারা পরিস্থিতি তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুরা।