
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন গণভোটে যদি ‘না’ ভোট জয়ী হয়, তাহলে দেশের পুরোনো শাসন ও প্রশাসনিক কাঠামোই বহাল থাকবে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণভোটের পক্ষে ‘ভোটের প্রচার গাড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ প্রবণতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘না’ ভোট পাস হলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। এতে করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি আমাদের দলকে ভোট না-ও দেন, তবুও আমাদের অনুরোধ থাকবে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। এটি কোনো দলের নয়, দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।”
এনসিপি আহ্বায়ক আরও অভিযোগ করেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। তার মতে, ‘না’ ভোট পাস হলে পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসা শক্তিগুলো আবারও স্বৈরাচারী পথে হাঁটতে পারে।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের গণভোট শুধু একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আগামী ৫০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। তাই সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অবাস্তব ও সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশকে সংকটে ফেলেছে। তিনি বলেন, “১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এবং সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। শুধু ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর মতো স্লোগান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশে গণভোটের পক্ষে এনসিপির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং ভোটের দিন পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এনসিপির নেতাদের মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই দেশের কাঠামোগত সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।