
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করে একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছিলেন, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন যেসব অডিট প্রতিষ্ঠান যাচাই করেছে, তাদের ভূমিকার বিষয়টিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার আগে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হলেও বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টা কমপ্লিকেটেড। ডিমান্ড করলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ডিপোজিটরদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থানে রয়েছে। “যাদের ব্যাংকে আমানত আছে, তারা অবশ্যই টাকা পাবেন। এটা খুবই সিমপল,”—বলেন তিনি। তবে শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন—মার্কেট দামে কিনেছেন কি না, মালিক হওয়ার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করেছেন কি না—এসব বিষয় যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক শেয়ারহোল্ডার দাবি করছেন যে তারা ব্যাংকগুলোর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছিলেন, যেখানে লাভ দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সেটাই তো আমরা পরীক্ষা করছি। কোন কনটেক্সটে শেয়ার কেনা হয়েছে, সেটি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা অডিট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে এখনই সব কথা বলা যাবে না।”
এদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—এই দুই খাতকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি—এটা সত্য। তবে দক্ষতা, সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নীতিগত সুদের হার বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাজারের গতিশীলতা অর্থনীতির বাইরেও রাজনৈতিক শাসন ও সুশাসনের ওপর নির্ভর করে।
অর্থ উপদেষ্টার মতে, দেশের উন্নয়ন কখনোই সরল রেখায় এগোয় না। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মাঝে মাঝে ধাক্কা আসতেই পারে।