
প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি তুলে এর সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে দলটি। মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক মাঝামাঝি স্থানে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যালট ভাঁজ করলে সহজে চোখে পড়ে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ব্যালট পেপার অ্যালফাবেটিক্যাল ক্রমে সাজানো হয়েছে কি না—সেটিই তাদের বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু বিএনপির কাছে বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়েছে। তাই পোস্টাল ব্যালটের এই বিন্যাস সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোট দিতে প্রবাসীসহ ১৫ লাখের বেশি ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। এই বড় অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে ব্যালট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাহরাইনে ব্যালট নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়েও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইন অনুযায়ী যাঁদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল, তাঁরা হলফনামায় তা পরিত্যাগ করার ঘোষণা দিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হন। সংবিধান ও আরপিও—উভয় ক্ষেত্রেই নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাই মূল বিষয়।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁরা দেশে ফিরে এসে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। তাঁদের শুধু জটিলতার কারণে নির্বাচনের বাইরে রাখা উচিত হবে না।
সম্প্রতি কয়েকটি আসনে প্রার্থীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের প্রমাণ দিতে না পারায় রিটার্নিং অফিসার ও পরে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর প্রতিক্রিয়াতেই বিএনপি এ অবস্থান নিয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কারের দাবি বিএনপিই সবার আগে তুলেছিল। সংস্কার বিষয়ে গঠিত কমিটিতে বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং বহু বিষয়ে একমত হয়েছে। যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি, সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে রয়েছে এবং তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।