
দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ—ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে যুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল এই চার দেশ থেকে। এমন প্রেক্ষাপটে ভিসা নীতিতে এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, সরকার চায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আস্থা রাখুক যে তারা অস্ট্রেলিয়ার একটি উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। নতুন এই নীতির মাধ্যমে শিক্ষার মান ও ভিসা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
তবে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক উপ-সচিব ড. আবুল রিজভী এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত এই ধরনের ক্যাটাগরি বছরে একবার হালনাগাদ করা হয়। তার মতে, হঠাৎ করে এই পরিবর্তন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, এর বাস্তব প্রভাব কী হয়—সেদিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।