
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজা সিভিল ডিফেন্স ও ইমার্জেন্সি ডিরেক্টরেট এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, খান ইউনিস শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য স্থাপিত একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আল-মাওয়াসি এলাকাকে ইসরায়েল এর আগে তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে বাস্তবে সেখানে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক এই হামলা নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে একই দিনে উত্তর গাজা উপত্যকায় পৃথক আরেকটি ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। ওই ঘটনায় আরও কেউ আহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ।
টানা হামলা, অবরোধ ও স্থল অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত আরও অন্তত ৪২৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।