
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণ করা জরুরি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপি যে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি বলেন, আপসহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন ছিল দলের, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগ আর আসেনি।
তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই—এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের নির্মম নির্যাতন ও অবহেলার মাধ্যমে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস অবশ্যই এই জুলুমের বিচার করবে।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেতা, যার শূন্যতা এ দেশের মানুষের হৃদয়ে আজও বেদনার কারণ হয়ে আছে। দেশের প্রতিটি মানুষ তার জন্য শোকাহত।
সভায় দোয়া পরিচালনা করেন সিলেট-৫ আসনের বিএনপি সমর্থিত জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক।
জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন সেলিম ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিব্বির আহমদ রনির যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন— সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী ফয়সাল, সহ-সভাপতি ইকবাল আহমদ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।