
জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারির পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
এই অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। পরে শিক্ষার্থীরা শাকসু কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কর্মসূচির ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
রাত প্রায় ৩টার দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে শাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা শাকসু কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তবে দীর্ঘ আলোচনা হলেও নির্বাচন বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি তারা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বর্তমানে শাকসু কার্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নির্বাচন কমিশনাররা অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের সঙ্গে আলোচনার পর শাকসু নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ইসির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শাকসু নির্বাচন আবারও বন্ধ করার অপচেষ্টা তারা মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, প্রশাসনকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।