
মহাকাশ অভিযানে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে ভারত। একসঙ্গে ১৬টি স্যাটেলাইট বহনকারী পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি)-সি৬২ মিশন উৎক্ষেপণের পর অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর রকেটটির তৃতীয় ধাপে গুরুতর বিচ্যুতি ধরা পড়ে।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) জানায়, উৎক্ষেপণের প্রথম কয়েক মিনিট পর্যন্ত সব কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। চার ধাপবিশিষ্ট এই লঞ্চ ভেহিকলের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে। তবে তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর পর রকেটের গতিপথে অনিয়ম দেখা যায়, যা পুরো মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন এ বিষয়ে বলেন, “আমরা প্রাপ্ত সব তথ্য বিশ্লেষণ করছি। যত দ্রুত সম্ভব বিস্তারিত জানানো হবে।” তবে মিশনটি সম্পূর্ণ সফল নাকি ব্যর্থ—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএসএলভির তৃতীয় ধাপে যেকোনো বড় ধরনের ত্রুটি প্রায়শই পুরো মিশনের ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এই ধাপেই উপগ্রহগুলোকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতি ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা হয়।
পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটিকে ইসরোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কামব্যাক’ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। কারণ ২০২৫ সালে পিএসএলভির মাধ্যমে মাত্র একটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। সেই ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও তৃতীয় ধাপেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছিল ইসরো।
এই মিশনে মোট ১৬টি স্যাটেলাইট বহন করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ছিল পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট ইওএস-এন১ এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) উন্নত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ‘অন্বেষা’। এসব উপগ্রহ দেশটির নজরদারি, নিরাপত্তা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল।
মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, এই ঘটনা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নতুন করে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইসরোর পরবর্তী বিশ্লেষণ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে মহাকাশবিশ্ব।