
মহাকাশে নতুন গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। ‘অন্বেষা’ নামের এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশটির প্রতিরক্ষা ও নজরদারি সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি)-এর ৬৪তম মিশনে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটের মাধ্যমে ইওএস-এন১সহ মোট ১৫টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়।
এই উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে গত বছরের একটি ব্যর্থতার পর পিএসএলভি রকেট ব্যবস্থা আবারও সফলভাবে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ইওএস-এন১ স্যাটেলাইটটির গোপন নাম ‘অন্বেষা’, যা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অন্বেষা’ একটি অত্যাধুনিক নজরদারি স্যাটেলাইট। এর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইমেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত, মানচিত্রায়ন এবং সীমান্ত এলাকায় গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মিশনের আওতায় ইওএস-এন১ ও ১৪টি সহযাত্রী স্যাটেলাইটকে সান-সিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ‘কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর’ (কেআইডি) নামের একটি স্যাটেলাইটকে পুনঃপ্রবেশ পরীক্ষার জন্য আলাদা পথে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দিকের পাশাপাশি এই উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্যও একটি মাইলফলক। প্রথমবারের মতো কোনো একক ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান এই মিশনে একাই সাতটি স্যাটেলাইট সরবরাহ করেছে। হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ধ্রুবা স্পেস এসব স্যাটেলাইট তৈরি ও সরবরাহ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অন্বেষা’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত শুধু তার মহাকাশ প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই প্রদর্শন করেনি, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তাও দিয়েছে। ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা ও নজরদারি কাঠামোয় এই স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।