প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 12, 2026 ইং
ব্রাকসু নির্বাচন ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে; ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ রানা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী, নির্বাচন কমিশনার ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে সাময়িক পরিবর্তনের বিষয়টিও জানানো হয়।
সভা শেষে জানানো হয়, ব্রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক। তবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ব্রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মো. শাহ্জাহান পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রাকসু নির্বাচনের জন্য নতুন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দিতে হলে সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু সিন্ডিকেট সভা এখনো অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কার্যক্রম যাতে পুরোপুরি স্থবির হয়ে না পড়ে এবং চলমান প্রস্তুতি অব্যাহত রাখা যায়, সে জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা এবং কিছু সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে বারবার ব্রাকসু নির্বাচন পেছাচ্ছে। কখনো নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেন, কখনো ভোটার তালিকায় গরমিল হয়-এমন নানা তালবাহানা দেখা যাচ্ছে। এসব নিয়ে আমরা খুবই ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাঁরা অবিলম্বে ব্রাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, আমরা সোমবার নির্বাচন কমিশনাররা বসে ভোটার তালিকার আপত্তি সমূহ নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবো। এছাড়াও নির্বাচন ২৫ ফেব্রুয়ারি করার জন্য তফসিল পুনর্গঠন করবো।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় ১৭ বছরেও বেরোবিতে একবারও কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত জুলাইয়ে আন্দোলনের মুখে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে গত ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর স্বাক্ষরে জারি করা গেজেটের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এ ব্রাকসু সংযুক্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ব্রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২৯ ডিসেম্বর। শীতকালীন ছুটির কারণে তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলনে নামলে দ্বিতীয় দফা তফসিলে ২৪ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে ভোটার তালিকায় অসংগতি দেখিয়ে ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে ৩ ডিসেম্বর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে শেষ পর্যন্ত ২৪ ডিসেম্বরের নির্বাচনও স্থগিত করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা